দীর্ঘ ১৭ বছর পর কসবায় জামায়াতের আলোচনা সভা ও ইফতার

কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর প্রকাশ্যে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় কসবা আলতাফ প্লাজার বিউটি কমিউনিটি সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ, সুধীজন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কসবা উপজেলা জামায়াতে ইসলামের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. ফরিদ উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মো. মোবারক হোসাইন আখন্দ। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মুহাম্মদ আতাউর রহমান সরকার।
কসবা উপজেলা জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির মো. শিবলী নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম সারোয়ারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, আড়াইবাড়ি ইসলামিয়া সাঈদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মো. আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াত ইসলামের প্রচার সম্পাদক কাজী সিরাজুল ইসলাম, কসবা পৌরসভা জামায়াতের আমির মো. হারুনুর রশিদ এবং কসবা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আবুল খায়ের স্বপন। দোয়া পরিচালনা করেন আকছিনা জালালিয়া দরবার শরীফের পীর সাহেব মাওলানা জয়নাল আবেদী জালালী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. মোবারক হোসাইন আখন্দ বলেন, “রমজানের শিক্ষা ও আল্লাহভীতির চেতনা লালন করতে হবে। সঠিক নীতি-নৈতিকতা মেনে চললে সমাজে দুর্নীতি ও অনিয়ম থাকবে না। জামায়াতে ইসলাম অতীতে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সততা ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে দেশ পরিচালনায়ও তা প্রতিফলিত হবে।” তিনি আরও বলেন, “দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামী মূল্যবোধের চর্চা অপরিহার্য। আমাদের সবাইকে সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে সত্য-নীতির পথে এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামী ৭১ এবং ২৪ এর চেতনা লালন করছি। রমজানের শিক্ষা ও আল্লাহ ভয়ের চেতনা লালন করছি। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম মাঠে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে। আল্লাহর ভয়ের চেতনা নিয়ে ২০০১ থেকে ৫ বছর জামায়াত ইসলাম সরকারে থেকে দায়িত্ব পালন করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সরকার তাদের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতিরও প্রমাণ করতে পারিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা রমজানের তাৎপর্য, ইসলামী জীবনধারার গুরুত্ব এবং সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা বলেন, ইসলামের মূল শিক্ষা হচ্ছে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করা, যা বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত হয়ে মতবিনিময় করেন এবং সামগ্রিকভাবে ইসলামী সমাজ গঠনে নিজেদের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেন। আলোচনার পর ইফতার পরিবেশন করা হয় এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

Post Under